ঝকঝকে সাদা দাঁত পেতে ঘরেই তৈরি করুন টুথপেস্ট। টুথপেস্ট এর ব্যবহার ও উপকারিতা

0
473

বর্তমানে বাজারে যেসব টুথপেষ্ট কিনতে পাওয়া যায় সেসবে এতটা কমপিটিশন বেড়ে গিয়েছে যে কোম্পানিগুলো তাদের পন্যে লবন, চার্কোল আর না জানি কি কি নাম দিয়ে তাদের প্রোডাক্ট এর প্রোমোশন করে থাকে৷ সেই সাথে তাদের পোডাক্টের দাম প্রতিদিন বেড়েই চলেছে।

যদি ৩০ টাকা দামের সস্তা টুথপেষ্টের হিসাবে বলি তাহলে একজন মানুষ রোজ দেড় থেকে দুই গ্রাম টুথপেষ্টের ব্যবহার করে থাকে৷ এর মানে ৬০ বছর বয়সী এক ব্যাক্তি তার সারা জীবনে ১ থেকে দেড় লাখ টাকার টুথপেষ্ট ব্যবহার করে।

যেসব টুথপেষ্ট বাজারে পাওয়া যায় সেটাতে কেবল ওইসব সেলিব্রিটিরাই সুবিধা ভোগ করে থাকে এটার এ্যাড করে থাকে। এসব টুথপেষ্ট দিয়ে আমাদের না কখনো লাভ হয়েছে না ভবিষ্যতে হবে। আমরা পেয়েছি কেবল নানান ধরনের রোগ। আপনি জেনে অবাক হবেন যে এসব টুথপেষ্টের জন্য আপনার ক্যান্সারও হতে পারে৷

কেননা বাজারে যেসব টুথপেষ্ট কিনতে পাওয়া যায় সেটাতে sodium lauryl sulfate নামের একটি ক্যামিক্যাল থাকে। আপনি হয়তো জানেন না এই একই কেমিক্যাল সাবান এবং শ্যাম্পুতে থাকে যেটা ফেনা তৈরি করার কাজ করে থাকে এবং এই কেমিকেল আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক ক্ষতিকর।

সেজন্য টুথপেষ্টের টিউবের ওপর ওয়ার্নিং দেওয়া থাকে। এখানে লেখা থাকে বাচ্চাদের থেকে দুরে রাখুন এবং এটাকে কখনোই গিলে ফেলবেন না। যদি আপনি ভুলে এটাকে খেয়ে ফেলেন তাহলে সাথে সাথে হসপিটালে যান বা বমি করুন ।

সব টুথপেষ্টের ওপর তার ক্যামিকেলের মাত্রা বোঝানোর জন্য একটা মার্ক থাকে যেটাতে বোঝানো হয় এতে কতটুকু ক্যামিক্যাল রয়েছে। গ্রিন মার্ক মানে এটাতে কোন ক্যামিকেল নেই, এটা পুরোপুরি প্রাকৃতিক উপায়ে বানানো। নীল মার্ক এটা নির্দেশ করে যে এটা অর্ধেক ক্যামিকেল এবং অর্ধেক প্রাকৃতিক উপায়ে বানানো। রেড মার্ক মানে এটার মধ্যে ক্যামিকেল বেশি ব্যবহার করা হয়েছে এবং এর মধ্যে সামান্য প্রাকৃতিক জিনিসের ব্যবহার করা হয়েছে। এবং ব্লাক মার্ক নির্দেশ করে থাকে যে এটার মধ্যে সবই ক্যামিকেল কোন প্রকৃতিক কিছু নেই। সেজন্য যখনই আপনি টুথপেষ্ট কিনবেন অবশ্যই এই জিনিসের ওপর নজর দিন।

এবার আসুন জানি,

ঘরেই কিভাবে প্রাকৃতিক উপায়ে টুথপেষ্ট বানাবেন?

Photo taken in Cochin, India

এটাকে বানানোর জন্য আমাদের দরকার পড়বে

• কাচা হলুদের গুড়া
• নিমের ছাল বা নিমের পাতা
• ফিটকিরির পাউডার
• আমলকীর গুড়ো
• শীলা লবন
• এবং লবঙ্গের গুড়ো

ফিটকিরিকে ছেকার জন্য প্রথমে এটাকে গুড় করে তারপর এটাকে ভালো মত ছেকে নিন। এটাকে যখন গুড়ো করা হয় তখন আবার জমাট বাধতে শুরু করে সেজন্য এটাকে ভালো মত গুড়ো করে তারপর ছেকে নিতে হবে। এই সব জিনিসগুলোকে বরাবর মাত্রায় নিয়ে একসাথে মিক্স করতে হবে। আপনি চাইলে এটার ব্যবহার শুকনা মাজনের মতও করতে পারেন বা এটার পেস্টও বানাতে পারেন।

পেস্ট করার জন্য এগুলোতে ঘানিতে ভাঙানো খাবার নারকেল তেল মেশাতে হবে এবং এটাকে ভালো মত মিক্স করে নিতে হবে৷ যখন এগুলোকে মিলিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করে ফেলবেন তখন এটা ব্রাশের ওপর দিয়ে টুথপেষ্টের মত ব্যবহার করতে পারবেন।

এই পেস্ট আপনার দাতের সব সমস্যা সমাধান করে দিবে। মাড়ির গোড়ায় ব্যাথা, দাতে ব্যাথা, দাতের গোড়া দিয়ে রক্ত পড়া, দাতে সেনসিটিভিটি হওয়া এই ধরনের সব সমস্যা থেকে এটা আমাদের সুরক্ষা দিয়ে থাকে। সেই সাথে এটা আমাদের দাঁতের ময়লা দূর করে চকচকা বানিয়ে দিবে। এছাড়াও দাতের টুথপেষ্টের জন্য আরো একটি উপায় আছে যেটা আমরা ঘরেই বানাতে পারবো৷ এই টুথপেষ্ট দাতকে মুক্তার মত সাদা করতে সবচেয়ে দ্রুততর কাজ করে থাকে৷ এই টুথপেষ্ট বানানোর জন্য আমাদের লাগবে।

• বেকিং সোডা
• খাবার নারকেল তেল।
• এবং পুদিনা পাতার নির্যাস।

এটাকে বানানোর জন্য সবার প্রথমে খাবার নারকেল তেলের মধ্যে বেকিং সোডাকে মিক্স করতে হবে৷ যতটুকু আমরা নারকেল তেল নিবো ঠিক তার অর্ধেক বেকিং সোডা নিবো৷ এরপর তাতে আধা চামচ পুদিনা পাতার নির্যাস দিবো। পুদিনার নির্যাস আপনি আপনার স্বাদ মত দিতে পারেন। যদি এটা না পান আপনি এটার জায়গায় তুলিসর নির্যাসও ব্যবহার করতে পারেন। এই দুটো জিনিসই আপনি যেকোন কসমেটিকসের দোকানে বা যেকোনো আয়ুর্বেদিক স্টোরে পেয়ে যাবেন। এই তিনটি জিনিসকে ভালো মত মিশিয়ে আপনি কোন জারে রেখে রোজ এটা দিয়ে ব্রাশ করতে পারেন।

যদি আপনার দাত হলুদ হয়ে থাকে তাহলে এটা সাদা করে তুলবে মাত্র ৩ দিনের ব্যবহারে। এটার কার্যকারীতা আরো দ্রুত করতে চাইলে আপনি এটার ওপর ১-২ ফোটা লেবুর রস এবং এক চিমটি লবন দিয়ে তারপর ব্রাশ করতে পারেন এর ফলে এটা দ্বিগুন উপকারীতা দিবে৷ এভাবে এটাকে মাত্র ১ দিন ব্যবহার করলেই দাতের হলুদ ভাব কেটে যাবে। এবং আপনার দাতকে একদমই মুক্তার মত ঝকঝকে করে তুলবে।

আশা করি এটা ফলো করলে আপনি দাতের জন্য ভালো রেজাল্ট পাবেন।

Leave a reply