ডিম কখন, কিভাবে, কতটুকু খেতে হবে? ডিম খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

0
480
eggs

আমাদের মধ্যে অনেকে ডিম কেবল টেস্টের জন্য খেয়ে থাকে। সেজন্য কিছু মানুষ এগুলোকে ফ্রাই করে খায় কিছু মানুষ সিদ্ধ করে খায় আবার কিছু মানুষ বেশি পুষ্টি পাবার লোভে পড়ে কাঁচাই খেয়ে ফেলে৷ এদের মধ্যে কিছু মানুষ আছে যারা ব্যায়াম করার পরে ডিম খায় ওজন কমানো বা বাড়ানোর জন্য।

কেননা এটা সঠিক ভাবে খাবার ফলে এটাতে থাকা হাই প্রোটিন শরীরে মাংসের পরিমান বাড়ায় সেই সাথে শরীরের চর্বিকে কমাতে অনেক বেশি সাহায্য করে থাকে।

কিন্তু এমন মানুষের জন্য একটি টিপস হচ্ছে ডিমকে কখন কিভাবে খাবেন যাতে করে ডিমে থাকা প্রোটিন পুরোটাই কাজে লাগানো যায়? কেননা ডিমকে ভুল ভাবে খেলে এটা আপনাকে অসুস্থও করে দিতে পারে। সেজন্য আজকে আমরা জানবো কাঁচা ডিম, সিদ্ধ ডিম এবং ভাজা ডিমে কি পার্থক্য আছে এবং আমাদের এর মধ্যে থেকে সব আলাদা আলাদা রকমের ডিম কখন খেতে হবে।

সেটা বুঝতে হলে আমাদের আগে দুটো জিনিস বুঝতে হবে। নাম্বার ১ ডিমে পাওয়া নিউট্রেশনস। মানে একটি কাঁচা ডিমে কতটুকু পরিমার পুষ্টিগুণ থাকে এবং সিদ্ধ বা ভাজার পরে তাতে কতগুলো পুষ্টি বাড়ে বা কমে। নাম্বার দুই ডিমের এবর্জর্বেশন ক্ষমতা মানে হচ্ছে কাঁচা, সিদ্ধ এবং ভাজা ডিমের মধ্যে কোন ডিম ভালো মত আমাদের শরীরে হজম হতে পারে এবং কোনটা আমাদের ক্ষতি করতে পারে। কেননা যেকোন জিনিস ভালো হলেও সেটা যদি পেটে গিয়ে হজম না হতে পারে তাহলে সেটা আমাদের শরীরের জন্য ভালো হয় না।

শুরু করি কাঁচা ডিম দিয়ে

আপনাদের সবার মনে প্রশ্ন থাকে পুষ্টির দিক দিয়ে কাঁচা ডিমে কি কি উপাদান থাকে এবং এটাকে সিদ্ধ করার পরে সেই সব পুষ্টিগুণ কমে যায় নাকি বেড়ে যায়?

eggs

fried egg on yellow background, top view

আসলে ডিমে সবচেয়ে বেশি প্রোটিন এবং নিউট্রেশন থাকে আর যদি এটার হলুদ অংশকে ফেলে দেই তাহলে এটার সাদা অংশে ফ্যাট ফ্রি, কোলেস্ট্রেল ফ্রি পিওর প্রোটিন পাওয়া যায়। যেটা পৃথিবীর সবচেয়ে সস্তা এবং হাই কোয়ালিটি প্রোটিন হয়ে থাকে। কেননা পৃথিবীতে এমন অন্য কোন ফুড নেই যেটাতে ডিমের সাদা অংশের মত হাই কোয়ালিটি প্রোটিন পাওয়া যায়৷ এটাই একমাত্র কারন বেশিরভাগ বডি বিল্ডাররা প্রোটিনের টার্গেট পূরন করার জন্য ডিমের সাদা অংশের ব্যবহার করে থাকে।

কিন্তু অনেকে এটা বলে থাকে যে কাঁচা ডিম সিদ্ধ ডিমের তুলনায় বেশি প্রোটিন প্রোভাইড করে থাকে। আপনার এমনটা ভাবা একদমই ভুল। কারন, একটি কাঁচা ডিমে ৬ গ্রাম প্রোটিন থাকে যেটার ৪ গ্রাম এটার সাদা অংশে থাকে এবং ২ গ্রাম হলুদ অংশে থাকে। ডিমকে ভাজলে বা সিদ্ধ করলেও প্রোটিন এর মাত্রাতে কোন কমতি আসে না৷ সিদ্ধ করুন বা ভাজুন প্রোটিন এর মাত্রা ৬ গ্রামই থাকবে। কিন্তু ভাজা ডিমে ফ্যাটের পরিমান একটু বেড়ে যাবে। এটা ডিপেন্ড করবে ডিমটাকে ভাজার জন্য আপনি কোন তেল ব্যবহার করছেন এবং কতটুকু মাত্রায় ব্যবহার করছেন৷

এবার কথা বলি করি দ্বিতীয় উপায় সম্পর্কে। কাঁচা ডিম, সিদ্ধ ডিম এবং ভাজা ডিম এই তিনটার মধ্যে কোনটা ঠিক মত এবজরভ হতে পারে এবং কোনটা শরীরে এমনিতেই পড়ে থাকে এবং পঁচতে থাকে। এখানে একটি প্রশ্ন আসতে পারে কাঁচা ডিম এবং সিদ্ধ ডিম দুটোতেই ৬ গ্রাম প্রোটিন থাকে সেহেতু কাঁচা ডিমই খাই এতে করে ভাজা বা সিদ্ধ করার সময়টা বেঁচে যাবে। কিন্তু এখানে একটি সমস্যা আছে।

আমাদের প্রথমে ডিমের ব্যাপারে ভালো মত জানতে হবে কেননা ডিমের মধ্যে এক ধরনের ব্যাক্টেরিয়া থাকে যেটার নাম Salmonella। যখনই আমরা এটাকে কাঁচা খাবো তখন এটাতে থাকা স্যালমোনেলা ব্যাক্টেরিয়ার জন্য শরীরে ফুড পয়জনিং হবার চান্স থাকবে। যেটার কারনে পেটে ব্যাথা, লুজ মোশন, মাথা ব্যাথা, বমি সহ জ্বরের মত সমস্যাও হতে পারে৷

বাচ্চা, বৃদ্ধ এবং প্রেগনেন্ট মহিলাদের ওপর এটার প্রভাব বেশি পড়বে। যদিও এটার প্রভাব সবার ওপর পড়ে না কেননা অনেকের ইমিউনিটি সিস্টেম অনেক স্টং হয়ে থাকে যেটার জন্য ব্যাক্টেরিয়া গুলো পেটের মধ্যে গিয়ে মরে যায়। কিন্তু তার পরেও কাঁচা ডিম খাওয়া থেকে সবাই বিরত থাকবেন। শুধু এতটুকুই না। কাঁচা ডিমে থাকা প্রোটিন কেবল মাত্র ৫০% ই আমাদের শরীরে এবজর্ব হতে পারে।

সেখানেই ডিমকে যদি সিদ্ধ করে বা ভেজে খান তাহলে ডিমে থাকা প্রোটিন ৯০-৯৫% অবদি আমাদের শরীরে এবজর্ব হয়ে যায়৷ সেই সাথে উচ্চ তাপে সিদ্ধ বা ভাজার জন্য এটাতে থাকা সেলমোনেলা ব্যাক্টেরিয়া মরে যায়৷ কাঁচা ডিম খাবার ফলে এটা শরীরে বায়োটিন ভিটামিন বি কম্পেক্স কে শোষন হওয়া থেকে থামিয়ে দেয় যার জন্য এটা যদি রোজ খান তাহলে শরীরে বায়োটিন কমে যায় যার ফলে স্ক্রিন রেশ, চুল ঝরে যাওয়া এবং রাতে ঘুম না আসার সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।

একটা জিনিস তো বোঝাই যাচ্ছে ডিম কাঁচা হোক বা সিদ্ধ তাকে পুষ্টির মাত্রা একই থাকে। কিন্তু কাঁচা ডিম শরীরে যাবার পরে ক্ষতিও করতে পারে। সেজন্য ডিমকে সব সময় ভেজে বা সিদ্ধ করেই খাবেন।

সেই সাথে এটা জানাও জরুরি যে কোন ডিমকে কখন এবং কিভাবে খেতে হবে। কেননা সিদ্ধ ডিমের সাদা অংশ আপনাকে পিওর প্রোটিন প্রোভাইড করে। সেজন্য এটাকে ব্যায়াম করার আগে বা পরে সেবন করার ফলে এটাতে থাকা প্রোটিন ব্যায়াম করার সময় ব্রেকডাউন হওয়া মাসেল্সকে রিপেয়ার করতে অনেক সাহায্যে করে থাকে।

যদি আপনি সিদ্ধ ডিম বা ভাজা ডিমের হলুদ অংশ সহ খেতে চান তাহলে সেটাকে সকালে নাস্তার সময় খান। কেননা নাস্তাতে ডিম খাবার ফলে আমাদের শরীরে জরুরি এমাইনো এসিড এবং সঠিক মাত্রায় ফ্যাট পেয়ে যায়। যার জন্য আমাদের শরীর সব সময় চাঙ্গা থাকে।

আজকের জন্য এইটুকুই। আশা করি বুজে গিয়েছেন আপনাকে কোন ডিম কখন এবং কিভাবে খেতে হবে। ভালো লাগলে কমেন্ট করে আমাদের জানান কেমন লেগেছে। এই রিলেটেড কোন প্রশ্ন থাকলে সেটাও করতে পারেন।

Leave a reply