পুরুষের যৌন শক্তি বাড়ানোর ও শুক্রাণু বৃদ্ধির উপায়

0
499
inferltiity

যখনই প্রেগনেন্সিতে কোন সমস্যা হয় তার পুরো দায়ভার মহিলাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। যেটাকে ইনফারটিলিটি বলে হয়ে থাকে। কিন্তু ইনফারটিলিটির সমস্যা মহিলা পুরুষ দুজনেরই হতে পারে।

একটি রিসার্চে দেখা গিয়েছে ৩০% ইনফারটিলির সমস্যা পুরুষদের মধ্যেও রয়েছে। এই সমস্যায় পুরুষদের স্পামের রেট কম এবং স্পাম ব্লকেজ এর সমস্যা দেখা গিয়েছে। স্পামের প্রোডাকশন পুরুষদের অন্ডকোষে হয়ে থাকে যেটা অনেকটা মেইল হরমোনের ওপর নির্ভর করে।

শুক্রুানু কমে যাবার কারন আমাদের খাবার দাবার এবং লাইফস্টাইল হয়ে থাকে। যখন পুরুষের মধ্যে ইনফারটিলির সমস্যা দেখা হয় তখন সবাই মনে করে পুরুষের শুক্রানুর পরিমান কমে গিয়েছে। কিন্তু শুক্রানুর সংখ্যাই কেবল নরমাল হওয়া যথেষ্ট নয়। কেননা World Health Organisations (WHO) এর মতে শরীরে স্পাম কাউন্ট নরমার হবার সাথে সাথে স্পামের মরটিলিটি এবং মরফালজি নরমাল থাকাটাও জরুরি।

এখানে স্পাম কাউন্ট মানে হচ্ছে শুক্রানোর সংখ্যা। স্পাম মটিলিটির মানে হচ্ছে শুক্রানোর সামনে এগিয়ে যাবার ক্ষমতা কত এবং মরফালজির মানে হচ্ছে শুক্রাণুর আকার প্রকার কেমন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে কোন ব্যাক্তির বাবা হবার জন্য তার শুক্রাণুতে

১৫ মিলিয়ন স্পাম কাউন্ট
৩২% স্পাম মরটিলিটি
এবং ৪% স্পাম মরফালজি থাকতে হবে।

এদের মধ্যে কোনটা যদি কম হয়ে যায় তাহলে প্রেগনেন্সিতে অনেক সমস্যা দেখা দেয়। কিছু মানুষের মধ্যে মরফালজি এবং দ্রুত গতিতে আগানোর ক্ষমতা তো থাকে কিন্তু শুক্রানুর সংখ্যা কম থাকে।

এটাকে মেডিকেলের ভাষাতে অলিগোজুস পারমিয়া বলা হয়ে থাকে। অন্য কেসে শুক্রানুর সংখ্যা এবং আকার ঠিক থাকলেও সামনে যাবার ক্ষমতা কম থাকে। একে এফথানোজুম পারমিয়া বলা হয়ে থাকে।

sperm

তৃতীয় কেইসে শুক্রানুর সংখ্যা এবং আগানোর ক্ষমতা ঠিক থাকলেও আকার ঠিক থাকে না যার জন্য প্রেগনেন্সিতে সমস্যার সৃষ্টি হয় যেটাকে টেরাটোজুস পারমিয়া বলা হয়ে থাকে। আবার কিছু কিছু মানুষের এই তিনটি জিনিসের কমতি থাকে যাকে অলিগো এনথেনো জুস বলা হয়ে থাকে। কিন্তু এটার জন্য আপনাকে একদমই চিন্তা করতে হবে না।

কেননা ইনফারটিলিটির সমস্যা আপনার রোজকার খাবার দাবার এবং লাইফস্টাইলকে পরিবর্তন করে ঠিক করতে পারবেন। আমি চাইনা আপনি অর্ধেক তথ্য জেনে চলে যান। কারন অর্ধেক তথ্য আপনাকে পুরো উপকার দিবে না। আপনি যদি সঠিক তথ্য ভালোভাবে জানতে চান তাহলে পোস্টটা অবশ্যই পুরোটা পড়ুন।

সন্তান হিনোতার সমস্যার জন্য আমরা এই পোস্টকে ৩ ভাগে ভাগ করবো।

প্রথমে অংশে জানবো ইনফারটিলি মানে শুক্রানুর সংখ্যা কেন কমে যায়। দ্বিতীয় অংশে আমরা জানবো শুক্রাণু যদি কমে যায় তাহলে তার লক্ষ্মণ কি হয়। মানে কিভাবে আমরা জানবো আমাদের শুক্রাণুর সংখ্যা কমে গিয়েছে। তৃতীয় অংশে জানবো এটার সমাধান কিভাবে করবেন এবং আপনার শুক্রাণুর সব ঠিক রাখার জন্য আয়ুর্বেদিক এবং ঘরোয়া কিছু রেমিডি।

ইনফারিটিলি হবার কারন!

পুরুষদের শরীরে ইনফারটিলি হবার অনেক কারন থাকে। যেমন অনেক বেশি তাপমাত্রায় কাজ করা। বিচিতে বা অন্ডকোষে কোন আঘাত পাওয়া। কোলের ওপর কোন প্রকার ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করা যেগুলো রেডিও সিগনালে চলে যেমন ল্যাপটপ মোবাইল ইত্যাদি। কেননা এমনটা করার ফলে অন্ডকোষে চাপ পড়ে যেটার জন্য স্মামে অনেক ধরনের সাইড এফেক্ট পড়ে থাকে। ধূমপান করা, মদ পান করা, অনেক সময় ধরে রোগে ভোগা বা কোন ঔষধ এর সাইড এফেক্টের কারনেও ইনফারটিলির সমস্যা হতে পারে।

শুক্রাণু কমে যাবার পরে লক্ষ্মণ গুলো কি কি?

যখনই ইনফারটিলিটর সমস্যার সৃষ্টি হয় তখনই তার লক্ষন দেখা দিতে শুরু করে। যেমন সেক্সের সময় বির্য পাতলা হওয়া। সেক্সুয়াল রিলেশনশিপে অনিহা আসা, বির্য বের হবার সময় ব্যাথা হওয়া ইত্যাদি। যদি এমন কিছু দেখেন তাহলে আপনার সিমন এনালাইসিস করানো উচিত হবে। মানে হচ্ছে ভালো কোন ডাক্তার দেখিয়ে আপনার স্পাম টেস্ট করিয়ে নিন।

High angle view of a large assortment of healthy fresh rainbow-colored organic fruits and vegetables. The composition includes cabbage, carrots, onion, tomatoes, raw potato, avocado, asparagus, eggplant, celery, cucumber, broccoli, squash, lettuce, spinach, lemon, apples, pear, strawberries, papaya, mango, banana, grape fruit, oranges, kiwi fruit among others.

এসব সমস্যা থেকে কিভাবে মুক্তি পাবেন?

ভালো রেজাল্ট পাবার জন্য কেবল ঔষধ খাওয়াটাই যথেষ্ট না। ভালো রেজাল্ট পেতে হলে আপনাকে আপনার খাবার দাবার এবং লাইফস্টাইলেও পরিবর্তন আনতে হবে। পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। শুক্রানুর পরিমান বাড়ানোর জন্য এন্টি অক্সিডেন্ট এবং জিংক জাতীয় খাবার বেশি করে খেতে হবে। যেমন ধরুন কলা, ডিম, আপেল, গ্রিন টি, পালংশাক ড্রাইফুড বিশেষ করে আখরোট এবং আনারের জুস সবচেয়ে উপকারী জিনিস।

কিন্তু এর সাথে সাথে আপনাকে আপনার লাইফস্টাইলেও পরিবর্তন আনতে হবে। যেমন ধরুন ব্যায়াম করা, সব সময় হাসিখুশি থাকা, হস্তমৈথুন থেকে ১০০ হাত দুরে থাকা, ধুমপান, তামাক এবং মদ পান একদমই না করা। কেননা এইসবের কারনে মেইল হরমোন দিন দিন কমতে থাকে। উপরে বলা সব উপায় গুলো ঠিক মত ফলো করুন। কেননা মাত্র এই কয়টা টিপস ফলো করলেই আপনি সুস্থও থাকতে পারবেন এবং শুক্রাণুতে কখনোই সমস্যা হবে না। আর যদি আপনি বাবা না হতে চান তাহলে এগুলো ফলো করার দরকার নেই।

আজকের জন্য এইটুকুই। ভালো লাগলে কমেন্ট করে আমাদের জানান কেমন লেগেছে। এই রিলেটেড কোন প্রশ্ন থাকলে সেটাও করতে পারেন।

Leave a reply