মশা তাড়ানোর ঘরোয়া উপায় ও মশা মারার ঔষধ

0
920

ইদর, বিড়াল, তেলাপোকাকে দেখে প্রায় মানুষ ভয়ে চিৎকার দিয়ে ওঠে। কিন্তু এই সব জিনিসের থেকেও ভয়ংকর জিনিস হচ্ছে ছোট মশা। যেটা অন্য সব পোকাগুলো থেকে সবচেয়ে বেশি ভয়নক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মোতাবেক মশা থেকে ছড়ানো রোগ থেকে প্রতি বছর সারা বিশ্বে প্রায় ১০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়৷ মশা ছাড়া এমন অন্য কোন প্রানি নেই যেটার জন্য প্রতি বছর এত মানুষ মরে যায় বা অসুস্থ হয়ে যায়৷

এজন্য মশাকে পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর এবং প্রাণঘাতী প্রাণি বলা হয়ে থাকে। পুরো বিশ্বে মশাদের প্রায় ৩ হাজারের মত প্রজাতি রয়েছে। যদিও সব মশার প্রজাতী প্রানঘাতী হয়না। কিন্তু ঘরের মধ্যে যদি ১ টাও ডেঙ্গু বা ম্যালেরিয়ার জীবানু ছড়নো মশা চলে আসে তাহলে তার একটা কামড়েই আমাদের জন্য প্রানঘাতী প্রমানিত হতে পারে।

এমনিতে তো মশা সারাবছরই থাকে কিন্তু গরমের সময় এবং বৃষ্টির সিজন শেষ হবার পরে মশার সংখ্যা বেড়ে যায় এবং এটাই একমাত্র সময় যখন মশা বাহি জীবানু অধিক মাত্রায় ছড়িয়ে পড়ে। মশা থেকে ছড়নো জীবানু গুলোর মধ্যে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া এবং চিকন গুনিয়া সবচেয়ে বেশি ভয়াবহ।

বর্তমানে এই তিন ধরনের রোগই অনেক দ্রুততার সাথে ছড়িয়ে পড়ছে। মশার মারার জন্য বাজারে নানান ধরনের প্রোডাক্ট কিনতে পাওয়া যায়। এই প্রোডাক্ট গুলোর মধ্যে রয়েছে মশার কয়েল, কার্ড, রেফেলার, লোশন এবং স্পের মত অনেক জিনিস।

মশাকে মারার জন্য এখন অবদি এমন কোন প্রোডাক্ট তৈরি হয়নি যেটা শুধু মশাকেই মারবে এবং মানুষের ওপর কোন ইফেক্ট করবে না। কেননা এই সব প্রোডাক্টে ক্যামিকেলের মাত্রা অনেক বেশি থাকে যেটা মশাকে তাড়ায় ঠিকই কিন্তু আমাদের শরীরের জন্য নতুন নতুন রোগও নিয়ে আসে।

 

মশা তাড়ানোর ঘরোয়া উপায়

আজকে আমরা জানবো দুটি সহজ উপায় যেটার ব্যবহারের ফলে ঘরে আসা মশা থেকে চিরতরে মুক্তি পাবেন। প্রথম পদ্ধতিটা খুবই সহজ। এটাকে এপ্লাই করার ১০-১৫ সেকেন্ড মধ্যে ঘর থেকে সব মশা পালিয়ে যাবে এবং দ্বিতীয় পদ্ধতিটা সারারাত মশাকে ঘর থেকে দুরে রাখবে। এই সব ছাড়াও আমরা জানবো ভ্রমনের সময় বা খোলা জায়গায় মশার প্রকোপ থেকে কিভাবে বাঁচবেন। তাহলে চলুন কথা বলি প্রথম রেমিডির ব্যাপারে।

মশা তাড়ানোর ওষুধ বানাতে যা লাগবে

এটাকে বানানোর জন্য আমাদের প্রয়োজন হবে

• তেজপাতা
• নিমের তেল
• এবং কপুরের

নিমের তেল মধ্যে এন্টিব্যাক্টেরিয়ার প্রোপার্টি রয়েছে। মশাকে দূর করার সাথে সাথে সাথে এটা ত্বকে হওয়া দাদ, খুজলি এবং ত্বকের সাথে যুক্ত অনেক সমস্যাকে চিরতরে সারিয়ে তোলে। নিমের তেল আপনি যে কোন ঔষুধের দোকান বা আয়ুর্বেদিক স্টোরে সহজেই পেয়ে যাবেন।

মশা তাড়ানোর ওষুধ যেভাবে বানাতে হবে

এই রেমিডি তৈরি করার জন্য একটি মাঝারি বাটিতে ১০০ গ্রাম নিমের তেলের মধ্যে ১ বড় চামচ কপুরের গুড়ো নিয়ে নিন তারপর সেগুলোকে ভালো মত মিক্স করে স্প্রে করা যায় এমন বোতলে ভরে রাখুন। এই রেমিডি মশা তাড়ানোর জন্য খুব দ্রততার সাথে কাজ করে থাকে৷ এরপরে ৩-৪ টা তেজপাতা নিয়ে তার ওপর নিমের তেলের স্প্রে করে দিন তারপর যে রুমে মশা সেই রুমে নিয়ে এটাতে জ্বালান। এটা থেকে বের হওয়া ধোয়া মাত্র ১০-১৫ সেকেন্ডর মধ্যেই কাজ করা শুরু করবে এবং সব মশাকে মেরে তাড়াবে।

মশা মারার ঔষধের উপকারীতা

তেজপাতা থেকে বের হওয়া ধোয়া আমাদের মস্তিষ্ককে শান্ত করে। রাতে ঘুম না আসা, মাথা ব্যাথা করা বা ভার হয়ে থাকার সাথে সাথে এটা মাথা থেকে স্ট্রেচ এবং টেনশনকেও দূর করে দেয়। সেজন্য বেশিরভাগ মেডিটেশন স্কুলে রিলাক্স হবার জন্য তেজপাতাকে জ্বালানো হয়। তেজপাতার ওপর নিমের তেল এবং কপুর জালিয়ে লাগালে রাতে ভালো ঘুম হয় এবং মশাকে তাড়ায়। এটা থেকে বের হওয়া ধোয়া এজমা এবং শ্বাসকষ্টের রোগীর জন্য উপকারী এবং মাইগ্রেনের রোগীদের জন্য আর্দশ জিনিস। এটাকে আরো সুগন্ধি বানানোর জন্য নিমের তেলে পেপারমেন্ট অয়েলও দিতে পারেন।

মশা তাড়ানোর উপায় দ্বিতীয় পদ্ধতি

দ্বিতীয় যে পদ্ধতিটা রয়েছে সেটাতে নিম এবং কপুরের মিশ্রনটির মধ্যে একটি তুলোর দড়ি দিয়ে সেটাকে প্রদীপ এর মত ব্যবহার করতে হবে। তারপর প্রদীপ এর শলতেতে আঙুল ধরিয়ে বিছানার পাশে রেখে দিন। এটার ফলে আপনার বিছানার আশেপাশে নিম থেকে বের হওয়া সুগন্ধি ছড়াবে যেটা মশাকে আমাদের কাছে আসা থেকে বিরত রাখবে। যদি আপনি রোজ রোজ প্রদীপ জালানোর ঝামেলা না করতে চান তাহলে বাজার থেকে বড় একটা চেরাগ কিনে এনে ব্যবহার করতে পারেন বা বাসায় কোন জারকে কেটে চেরাগ বানাতে পারেন। এমনটা করার ফলে এটাতে বার বার তেল ভরা লাগবে না এটা লম্বা সময় ধরে ব্যবহার করতে পারবেন। এটার কার্যকারীতা কেবল বিছানার আশেপাশ অবদিই সীমিত সেজন্য এটাকে বিছানার আশেপাশেই রাখবেন।

ঘরের বাইরে মশা থেকে বেঁচে থাকার উপায়

এছাড়াও আপনি কোন ভ্রমনে বা ঘর থেকে কোথাও বাইরে যান তাহলে আপনার স্ক্রিনের ওপর নারকেল তেল নিমের তেল লবঙ্গের তেল, পেপারমেন্ট অয়েল কে একসাথে মিশিয়ে লোশনের মত ব্যবহার করতে পারেন। এই সবগুলো তেল আমাদের শরীরের জন্য বেশ উপকারী সেই সাথে আমাদের কাছে মশা আসা থেকে বিরত রাখে।

বন্ধুরা এই সবগুলো উপায় একদম প্রাকৃতিক এবং মশাকে তাড়ানোর জন্য সবচেয়ে বেশি কার্যকারী। সেই সাথে এটার কোন খারাপ প্রভাব নেই বরং ভালো প্রভাব রয়েছে আমাদের শরীরের জন্য। সেজন্য এখন থেকে মশা থেকে বাঁচার জন্য ক্ষতিকারক প্রোডাক্টের জায়গায় এই ন্যাচারার পদ্ধতির ব্যবহার করুন।

Leave a reply