হজম শক্তি কমে যাওয়ার লক্ষণ ও হজম শক্তি বৃদ্ধির উপায়

0
288
হজম শক্তি বৃদ্ধির উপায়

আমাদের শরীরের সব গতিবিধি আমাদের হজমের সাথে যুক্ত। সেজন্য হজম শক্তির ত্রুটির প্রভাব আমাদের ত্বক, চুল, চোখ, ব্রেইন এবং অনান্য বডির পার্টের ওপর পড়ে৷ হজম প্রক্রিয়ায় আলাদা আলাদা অরগ্যান একসাথে মিলে কাজ করে এবং খাওয়া খাবার কে হজম করে। আমাদের হজম ক্রিয়া খাবারে থাকা প্রয়োজনীয় প্রোটিন বের করে শরীরে এনার্জি প্রদান করে থাকে।

হজম শক্তি কমে যাওয়ার লক্ষণ

• যখন খাওয়া খাবার অনেক দ্রুত বা অনেক দেরিতে হজম হয়
• খাওয়া খাবার শরীর ঠিক মত লাগে না
• বার বার বা অনেক কম খুদা লাগে
• সকালে উঠে পেট সাফ হয়না বা দিনের মধ্যে বার বার ফ্রেস হবার জন্য যাওয়া লাগে

তাহলে এমন সব লক্ষ্মণ হজম শক্তি খারাপ হবার নির্দেশ করে।

হজম শক্তি কমে গেলে কি হয়?

হজম শক্তি বৃদ্ধির উপায়

হজম শক্তি বৃদ্ধির উপায়

হজম শক্তি কম হবার জন্য পেটে ব্যাথা, গ্যাস, বুকে ব্যাথা, মাথা ব্যাথা, এলার্জি, থাইরয়েড সমস্যা, ত্বকের ওপর দাগ এবং চেহারায় পিম্পলস হওয়া, হাতে ব্যাথা, অনেক স্ট্রেচ, রাতে ঘুম না আসা, পাইলস এবং হাড্ডিতে ব্যাথার মত সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। কেননা যখন খাবার হজম হয়না তখন সেটা আমাদের পেটেই পচতে থাকে। যার ফলে অনেক ধরনের রোগ হবার সম্ভাবনা অনেক পরিমাণে বেড়ে যায়।

দূর্বল হজম শক্তি খাবারের সব পুষ্টিকে ঠিক মত এবজর্ব করতে পারে না। সেজন্য শরীরে সব সময় কোন না কোন সমস্যা লেগেই থাকে। কখনো শরীর দূর্বলতা, কখনো চুল পড়ে যাওয়া, কখনো চোখে কম দেখা, শরীরে ক্লান্তি থাকা খারাপ হজম শক্তির কারনেই হয়ে থাকে। সেজন্য খাবার হজম হওয়াটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

হজম খারাপ বা কোষ্ঠকাঠিন্য কি কারনে হয়?

মূলত সঠিক ভাবে ফাইবার জাতীয় খাবার না খেলেই হজম শক্তি আস্তে আস্তে নষ্ট হয়ে যায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা হয়। তাছাড়া খাবারে অনিয়ম এবং ভাজাপোড়া খেলে হজম খারাপ হতে পারে৷

আজকে আমরা জানবো এমন কিছু ভুলের ব্যাপারে যেটা আমাদের হজম শক্তিকে খারাপ এবং দূর্বল করে দেয়। সেই সাথে আমরা কথা বলবো কিছু টিপস এবং কার্যকারী ঘরোয়া রেসিপি সম্পর্কে, যেটা নিয়মিত কদিন পান করার পরে আপনার হজম প্রক্রিয়া পুরোপুরি ঠিক হয়ে এবং পেট রিলেটেড সব সমস্যা দূর করে দিবে। সবার প্রথমে বলি হজম প্রক্রিয়াকে ঠিক করার কয়েকটি কার্যকারী ঘরোয়া রেমিডি সম্পর্কে।

হজম শক্তি কমে যাওয়ার কারণ কি?

আমাদের শরীরে ভালো এবং খারাপ দুই ধরনের ব্যাক্টেরিয়া রয়েছে। হজম শক্তি কমে যাবার মূল কারন হচ্ছে পেটে ভালো ব্যাক্টেরিয়ার কমতি থাকা। যার ফলে পেটের হজম রসও কমে যায়। যার জন্য খাওয়ার পরে খাবার ঠিক মত হজম হয় না যার ফলে পেট ফুলে যাওয়া, ভারি অনুভব হওয়া, ঢেকুর ওঠা, এসিডিটির মত সমস্যা হতে শুরু করে।

হজম শক্তি বৃদ্ধির উপায় কি?

হজম শক্তি বাড়ানোর জন্য বেশ কিছু রিচ ফুড রয়েছে যেগুলো পেটের হজম রস এবং ভালো ব্যাক্টেরিয়া বাড়ায়। সেগুলো হলো,

খাবার

দই

একটি প্রো বায়োটিন ফুডের ক্যাটাগরিতে পড়ে। দই এবং জিরার মিশ্রন পেটের ভালো ব্যাক্টেরিয়াকে বাড়ায় এবং হজম শক্তিকে বাড়াতে অনেক সাহায্যে করে থাকে।

এক বাটি দইয়ের মধ্যে এক চামচ মিশরি পাউডার আধা চামচ বাটা জিরা, এবং অল্প একটু গোল মরিচের গুড়ো মিশিয়ে রোজ এটাকে খাবার খাওয়ার পরে খাবেন। এটাকে খাবার ফলে শরীরে ভালো ব্যাক্টেরিয়ার পরিমাণ বাড়ে এবং হজম শক্তি আগের থেকে অনেক বেশি মজবুত হয়ে যায়। খাবার খাওয়ার পরে ভাজা জোয়ান দানা আমাদের মেটাবলিজম রেটকে বাড়ায় এবং পেটকে ঠান্ডা রাখার জন্য অনেক বেশি উপকারী হয়ে থাকে।

জোয়ান দানা

প্রতিবার খাবার খাবার পরে ১ চামচ ভাজা জোয়ান দানা চিবিয়ে চিবিয়ে খান মিষ্টি স্বাদের জন্য এটার সাথে মিশরিও খেতে পারেন। জোয়ান দানা খাবার ফলে মুখে লালার পরিমান বাড়ে যেটা খাবারকে অনেক দ্রুত হজম করতে সাহায্য করে। যেসব মানুষের খাবার খাওয়ার পরে টক ঢেকুর ওঠে, বুক জলে তাদের খাবার খাওয়ার পরে জোয়ান দানা অবশ্যই খাওয়া উচিত হবে।

আদার রস

অনেক মানুষের পেটে pancreatic juices এবং এসিডের কমতি দেখা দেয় যার ফলে খাবার পেটে ঠিক মত হজম হয়না। এমন হলে খাবার খাওয়ার আগে ১ কাপ পানিতে ১ চামচ আদার রস এবং এক চামচ লেবুর রস মিশিয়ে পান করুন। অথবা এক টুকরো আদাকে লেবুর রসের মধ্যে ভিজিয়ে চিবিয়ে খান। এমনটা করার ফলে আমাদের পেট খাবার কে হজম করার জন্য তৈরি হয়ে যায় এবং এতে হজম রসও প্রচুর পরিমানে বেড়ে যায়।

হলুদের দুধ

রাতে ঘুমানোর ১-২ ঘন্টা আগে হলুদের দুধ সেবন করুন। রাতে ঘুমানোর আগে হলুদের দুধ খাবার ফলে হজম শক্তি বাড়ে এবং সকালে পেটও ভালো মত সাফ হয়৷ সেই সাথে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। এবার কথা বলি হজম শক্তি কোন কোন কারনে দূর্বল হয়ে যায়।

হজম শক্তি বৃদ্ধির ঘরোয়া উপায়

হজম শক্তি বৃদ্ধি

এটা সবচেয়ে সাধারণ বিষয় যেটার ওপর বর্তমানে ৯০% মানুষ নজর দিচ্ছে না। আপনি কি জানেন আমরা যে জিনিস খাই সেটার ৫০% আমাদের মুখেই হজম হয়ে যায়। এবং বাকি ৫০% আমাদের পেট হজম করে৷ তাড়াহুড়ো করে যখন আপনি ভালো মত না চিবিয়ে খান তখন সেটা পেটে গিয়ে হজম হতে সময় নেয় এবং আস্তে আস্তে আমাদের হজম শক্তি কমতে থাকে। সেজন্য সব সময় আপনি যখন খাবার খাবেন আস্তে আস্তে ভালো মত চিবিয়ে তারপর খাবেন৷

পানি পান করা

ভালো হজম শক্তির জন্য শরীরে পানির পরিমাণ বেশি থাকাটা জরুরি। যারা পানি কম খান তাদের প্রায় কফ এবং হজম প্রক্রিয়ায় সমস্যা থাকে। সেজন্য সারাদিনে কমপক্ষে ৫-১০ গ্লাস পানি অবশ্যই পান করুন।

যেসব খাবার হজম শক্তি কমিয়ে দেয়

যে-সব মানুষের খাবারের কোন রুটিন থাকে না তাদের হজমে সব সময় সমস্যা থাকেই৷ কখনো আগে এবং কখনো পরে খাবার ফলে আমাদের ডাইজেশন পুরোপুরি ডিস্টার্ব হয়ে যায় এবং পেট রিলেটেড সমস্যা সব সময় থাকে। ময়দা দিয়ে বানানো জিনিস আমাদের হজম শক্তির নষ্ট করে দেয়। সাদা পারুটি, বেকারি জিনিস এবং বিস্কুটের মত জিনিস কম খাবেন কেননা এতে গ্লুটামিনের মাত্রা অনেক বেশি পরিমানে থাকে যেটা আমাদের হজম প্রক্রিয়াকে দূর্বল করে দেয়।

ইন্সট্যান্ট কুকিং এর জন্য বর্তমানে বেশিরভাগ জিনিস প্যাকেটে পাওয়া যায়। আমাদের পেট ফ্রেস, মানে তাজা জিনিসকেই সবার আগে হজম করে৷ সেজন্য তাজা জিনিস দিয়ে তৈরি জিনিস আমাদের শরীরের জন্য উপকারী হয়ে থাকে। বেশিরভাগ প্যাকেটে পাওয়া জিনিস ১-২ বছর ভালো রাখার জন্য তার মধ্যে কেমিক্যালের ব্যবহার করা হয়৷ সেজন্য প্যাকেটে পাওয়া যায় এমন জিনিস খাবার ফলে আমাদের হজম শক্তি স্লো এবং দূর্বল হয়ে যায়৷

কাঁচা জিনিস সেবন করা

এই সব কিছুর পরেও খাবারের সঠিক কিছু নিয়ম রয়েছে সেগুলো সঠিক ভাবে পালন না করার ফলে হজম শক্তি নষ্ট হয় সেই সাথে শরীর নতুন নতুন রোগে সৃষ্টি হয়। সেজন্য আমি আপনাদের কাছে রিকুয়েষ্ট করবো আপনার লাইফস্টাইল বদলান খাবার খাওয়ার ধরন বদলান। দিনে কমপক্ষে ৫০% জিনিস কাচা খাবার চেষ্টা করুন। আপনি দেখবেন আপনি সব সময় সুস্থ আছেন

আজকে এই পর্যন্তই। আশা করি আজকে পোস্টটা আপনার জন্য অনেক উপকারী হবে।

Leave a reply